১২ এপ্রিল থেকে সব সিনেমা হল বন্ধ !

  • প্রকাশিত: March 13, 2019
  • ক্যাটাগরি :

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মধুমিতা সিনেমা হলের অন্যতম কর্ণধার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ।

‘সিনেমা হল বাঁচলেই চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচবে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘চলচ্চিত্রের দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আমরা তথ্যমন্ত্রী ও তথ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোকে বাঁচানোর কিংবা দেশীয় ছবির উৎপাদন বাড়ানো এবং উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির বাধাসমূহ অপসারণের কোনো কার্যকর পথনির্দেশ দিতে পারেননি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রেক্ষাগৃহ ১২৩৫ থেকে ১৭৪-এ নেমে এসেছে। এ কারণে বর্তমানে প্রদর্শক ও প্রযোজকের পুঁজি ধ্বংস হয়েছে, প্রেক্ষাগৃহের ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে।’

তারা বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বাজার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ১২ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ধর্মঘটের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেব। এটাই এখন আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত দাশ বলেন, প্রেক্ষাগৃহ বাঁচানো কিংবা দেশীয় সিনেমা নির্মাণ বাড়ানোর ব্যাপারে এবং উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির বাধা নিরসনে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। এখন সিনেমা নির্মাণও বছরে ৩৫ থেকে ৪০ টির মতো। এত কিছুর পরও পরিচালক এবং শিল্পীরা তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে, এই অজুহাতে উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির বিরোধীতা করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ৪৭ বছরেও পরিচালক ও শিল্পীরা ছবির গুণগত মান উন্নত করতে পারেননি। অথচ এটা সত্য যে, পাকিস্তান আমলে ভারতীয় বাংলা, হিন্দি সিনেমা ও পাকিস্তানি উর্দু সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের সিনেমা ব্যবসাসফল যেমন হয়েছে, তেমনি শিল্পমানও ছিল। প্রতিযোগিতার অভাবে ছবির গুণগত মান এখন নিম্নমুখী।

ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পায়নি। মার্চে যেসব ছবি মুক্তি পেয়েছে, তা দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত গত ৩ মাসে কোনো মানসম্মত সিনেমা মুক্তি পায়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রেক্ষাগৃহগুলো মোটামুটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে ।

সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা হলিউডের ছবিগুলোর মতোই বলিউড ও উপমহাদেশীয় সিনেমা মুক্তির প্রথম দিনেই বাংলাদেশে প্রদর্শনের দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা ছিল ৫৬টি। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। এরপর গত বছর নতুন ছবি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে দুই শতাধিক ছবি নিবন্ধিত হয়। ওই বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই নিবন্ধিত হয় প্রায় ৩৮টি ছবি। সেই তুলনায় চলতি বছরের দুই মাসে মাত্র ২৫টি ছবির নিবন্ধন হয়েছে। আর শুটিং শুরু হয়েছে মাত্র ৩টি ছবির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সহসভাপতি আমির হামজা, সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশীদ, জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, কার্যনির্বাহী সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন প্রমুখ।


বিনোদন