হরিপুরে ইউএনও সহ ৯ কর্মকর্তার পদশূন্য এদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে অনিয়ম

  • প্রকাশিত: July 1, 2019
  • ক্যাটাগরি :

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, খাদ্য কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সাব-রেজিষ্ট্রার, ভূমি সহকারী কমিশনার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও ত্রাণ ও প্রকল্প কর্মকর্তার মত গুরুত্বপূর্ণ ৯ টি পদ প্রায় দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় হরিপুর উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাগণ না থাকার ফলে এলাকার কিছু স্বার্থনেশি ব্যক্তি তাদেও পৈশিশক্তি খাঁটিয়ে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অনিয়ম করে চলছে। এতে দেখার কেউ নেই। হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব অনিয়মের চিত্র দেখা যায়।
হরিপুর উপজেলা পরিষদের সামনে হরিপুর-ঠাকুরগাঁওগামী পাঁকা রাস্তায় মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতিসৌধের গেটের পার্শ্বে বিলের জলাশয়ের উপর নির্মিত ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে বিলের কৃষি জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্র (ইসকেভেটার) দিয়ে মাটি কেটে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর করার জন্য প্রায় ৩ফুট উঁচু করে পাঁকা রাস্তার সরকারি জায়গাসহ দখল করে পুকুর পাহাড় বাঁধা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বিলের জলাশয়ের পানি প্রবাহের বাঁধা সৃষ্টি হবে এবং পাঁকারাস্তা হুমকির মূখে পড়বে।

ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন বা কৃষি জমিতে পুকুর খনন, জলাশয়ের পানি প্রবাহ বন্ধ করে পুকুর খনন, বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করতে চাইলে সরকারি নিয়ম অনুসারে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সহকারী কমিশনার ভূমি এর বরাবরে আবেদন করতে হবে। কিন্তু সরকারের এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে সম্প্রতি গত কয়েকদিনে উপজেলা সদরেই পাঁকারাস্তা সংলগ্ন কৃষি জমিতে মানিক সরকার ও খুরশেদ আলী গং নামে প্রায় ৮ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খননের কাজ করে চলেছে। অথচ এর আশেপার্শ্বে সরকারি কয়েক একর খাস জমিও রয়েছে। এই জায়গাগুলোতে সরকারি কিছু স্থাপনা তৈরি করার জন্যও প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। এর পরেও এই জায়গাগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশাসনের কোন জোড়ালো ভূমিকা নেই। অবশেষে গতকাল শনিবার হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মৌসুমি আফরিদা এর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হলেও এটির সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবারও কাজ শুরু হতে পারে।

অপরদিকে উপজেলার নারগুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্বে নারগুন ব্রীজটি গত বছর অতিরিক্ত বন্যার কারণে পানি প্রবাহের বাঁধা সৃষ্টি হওয়ায় এমনিতেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমতাবস্থায় এই ব্রীজের আশেপার্শ্বে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে ব্রীজের জলাশয়ের জমিতে প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটিয়ে বিশাল আকারের পুকুর তৈরী করছেন। এতে ব্রীজটি এবার বন্যায় ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রীজটির কিছু হলে গ্রামবাসীর যাতায়াতসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
উপজেলার ৩নং বকুয়া ইউনিয়নের পীরহাট বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরির প্রতিযোগীতা চলছে বলে বাজারের ইজারাদার জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার যাদুরাণী হাটের জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রস্তাবিত হাটের টোল আদায়ের তালিকা অনুসরণ না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইজারাদার আঃ হামিদ চেয়ারম্যান দলীয় প্রভাব ও তার পৈশিশক্তি দিয়ে গরু, মহিষ, ছাগলসহ অন্যান্য পণ্যের অতিরিক্ত টোল আদায় করে চলেছেন এবং এই অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ সিন্ডিকেটকারীগণের মধ্যে ভাগবন্টন করে নিচ্ছেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি গরু ও মহিষের জন্য সরকারি ভাবে ২৩০ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও এর স্থলে টোল নেওয়া হচ্ছে ২৭০ টাকা। প্রতিটি ছাগলের জন্য ৯০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ১৩০ টাকা। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে ইজারাদার আঃ হামিদকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে যান। যাদুরাণী হাটের অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি হরিপুর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি আফরিদা অবহিত থাকার পরও এর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রকৌশলী কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, খাদ্য কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সাব-রেজিষ্ট্রার, ভূমি সহকারী কমিশনার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও ত্রাণ ও প্রকল্প কর্মকর্তা পদগুলি শূন্য থাকায় সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজও চলছে ঢিলেঢালাভাবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে। এতে চরম জনসেবা ব্যহত হচ্ছে। এমতাবস্থায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য জনস্বার্থে নির্বাহী কর্মকর্তাসহ শূন্যপদ গুলিতে অতীব জরুরীভাবে কর্মকর্তা যোগদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার সুধীমহল।

উল্লেখ্য যে, গত ২৩/০৪/১৯ইং তারিখে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.জে. আরিফ বেগ ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরে বদলী হয়ে যান। এ সময় থেকে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি আফরিদা হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।


জাতীয়