ফরিদগঞ্জে সিরিজ ডাকাতি। আতংকে এলাকাবাসী

  • প্রকাশিত: July 4, 2019
  • ক্যাটাগরি :

গাজী মমিন: চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে একই গ্রামে, এক রাতে চার বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। একই রাতে চার বাড়িতে ডাকাতি ও তিন দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সদ্য বিদেশ ফেরত সুমন নামে একজন আহত হয়েছেন। ডাকাতদল আন্তত ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে। ডাকাতির শিকার দু’জন প্রবাসি, একজন ইউপি চেয়ারম্যান। বুধবার গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৮নং ইউপির সাহাপুর গ্রামে। একইভাবে ও দুর্ধর্ষ সিরিজ চুরির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর জেলার এ.এস.পি. মিজানুর রহমান, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ আব্দুর রকিবসহ পুলিশ সদস্যরা ডাকাতির শিকার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

ভূক্তভোগীদের মুখে সরেজমিন জানাগেছে, ডাকাতদল প্রত্যেক বাড়িতে একই কায়দায় ও সহজে কলাপসিবল গেইট ও দরজার তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। তারা সংখ্যায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ছিলো। ঘরে প্রবেশ করে ৩/৪ জনে ভাগ হয়ে বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে পড়ে। সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও হাত মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরে থাকা আলমিরা, শোকেস, অন্যান্য আসবাবপত্র তন্ন তন্ন করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নেয়।

ডাকাতিকালে প্রবাসি সুমন শেখের স্ত্রী আলমিরার চাবি দিতে না চাইলে, তাকে অশ্লীল গালমন্দ করে ও তার পাঁচ বছরের কন্যা শিশুর গলায় ধারালো ছুরি ধরে। প্রবাসি আব্বাছ খানের স্ত্রী জানান, তার এক মাসের ছেলে সন্তানের গলায় রাম দা ধরে আলমিরার চাবি নিয়ে নেয়। আব্বাছ শেখের স্ত্রী জানান, ডাকাতদল বাড়িতে ঢুকে আমার স্বামীকে খুঁজে। তাকে না পেয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করে জানতে চায় আব্বাছ শেখ কোথায়। তিনি বিদেশ আছেন বললে তারা আমার ওপর চড়াও হয়ে বলে, সে তো গত দুই তারিখে বাড়ি এসেছে। অন্যদিকে, ডাতকাতির শিকার জামাল শেখ (৭৫) জানান, তিনি কৌশলে দরজার সিটিকিরি খুলে বাইরে গিয়ে ডাকচিৎকার দেন।

এ সময় ডাকাতদল তার প্রবাসি ছেলে সুমন শেখ-এর ঘাড় লক্ষ্য করে কোপ দেয়। এতে সুমন শেখ হাত দিয়ে ঠেকালে বাম হাত গুরুতর জখম হয় ও ঘাড় সামান্য কেটে যায়। আহত সুমন শেখকে ভোরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চাঁদপুর জেলা সদরে জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

চেয়ারম্যান শওকত আলি বলেন, এর পূর্বে গত রমজান মাসে একইভাবে আমার বাড়িতে ডাকাতদল পবেশ করে। তারা তখন আড়াই লাখ টাকা ও অন্তত ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে।

ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ডাকাত দলের প্রত্যেকের হাতে চকচকে ধারালো অস্ত্র ছিলো। মুখে মাকস পরা, পরনে ছিলো জাঙ্গিয়া ও শর্ট প্যান্ট ছিলো। তাদের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২৫ বছর হবে।

সিরিজ ডাকাতির ঘটনার শিকার ভূক্তভোগড়ীরা জানান, ডাকাতদল রাত আনুমানিক এক টায় ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলির বাড়িতে, দেড়টায় প্রবাসি আব্বাছ খান, দুইটায় ঢাকা বসবাসকারী সেকান্তর খান ও রাত সাড়ে তিনটায় প্রবাসি সুমন শেখ এর বাড়িতে প্রবেশ করে।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় গ্রামীন বাজারে একই রাতে তিনটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবী করেছেন, চোরেরদল অন্তত তিন লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী, ডাকাতি ও চুরির সঙ্গে এলাকার কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ আব্দুর রকিব বলেছেন এ ব্যপারে মামলা হবে। আমরা সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছি। আশা করছি দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।


অপরাধ