ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালী উৎসব মুখর পরিবেশে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

  • প্রকাশিত: June 23, 2019
  • ক্যাটাগরি :

গাজী মমিন: “গৌরবের অভিযাত্রায় ৭০ বছর” স্লোগান ধারণ করে আয়োজিত বক্তব্যে চাঁদপুর ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেছেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ৪৭ সালে ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশরা বিতাড়িত হয়েছে। সেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আমার বাবা নিহত হয়েছিলেন। পরে আমি আমার চাচা জেঠার সহযোগিতায় লেখাপড়া করেছি।
তিনি আরো বলেন, ব্রিটিশ রিবোধী আন্দোলনে ’৪৭ সালে ব্রিটিশরা বিতাড়িত হয়। সে সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় এসে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী প্রথমে ছাত্রলীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের যোগ্য সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্টের সরকার ছিল। সে সময়ে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী ছিলেন। জাতিরপিতা দেশ স্বাধীনের স্বার্থে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেন, বাংলাদেশ স্বাধীন করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখন আমি এমপি হওয়ার পর কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অহেতুক ষড়যন্ত্র করছে।

ছবি. ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি

তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটি বর্ধিত সভায় খায়ের পাটওয়ারী বলেছে আমি নাকি কমিশন খাই। আমি কোন কমিশন নেয়াতো দূরের কথা, প্রতিমাসে আমার বাড়ি ভাড়া পাই সাড়ে সাত লাখ টাকা। আমার আর কোন লোভ নেই। বাকী জীবনটা এ দিয়েই খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতো পরবো। আমি এমপি হওয়ায় এখন কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। “আওয়ামী লীগের নৌকার ইজ্জত হানি হতে দেবো না”, “দেবো না”, “দেবো না”- বলে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দেন।
আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহম্মদ শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন আমি শুনেছি, ফরিদগঞ্জ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্টাবার্ষিকী পালন করবে না। এটা না হলে ওই বেকুবেরা বলে বেড়াতো আমি এমপি হয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বাষিকীর অনুষ্ঠানে আসি নাই। আমার ৫২ বছরের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা তো আছে। আরে, ওই বেকুবেরা তো জানে আমি এলাকায় আছি। এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়ের পাটওয়ারীকে ফোন দিয়েছি। তিনি আসবে বলেছে, কিন্তু আসেনি। সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকারকে ফোন দিয়েছি কিন্তু সে আমার ফোন ধরেনি। তারা আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসেনি।

ছবি. ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি

মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি তার বক্তব্য আরো বলেছেন, আমার আগে শফিউল্লা এমপি হওয়া ছাড়া এখানে আমার আগে নৌকা জিতে নাই। শামছুল হক যেভাবে সরকারি খাস জায়গা জমি দখল করে ঠিক সেভাবেই ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নমিনেশন দখল করে নিয়ে নিজেকে পরিচয় দিয়েছে আওয়াম লীগের প্রার্থী হিসেবে। তিনি সেই সময়ে মূলত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন না। এটা ছিল সম্পূর্ন ষড়যন্ত্র। এটা ছিল সম্পূর্ন অপপ্রচার মাত্র। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এর আগে দু’বার দল থেকে মনোনয়ন দিলেও এলাকার চোর বাটপাররা নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে দেয়নি। তিনি বলেন, কাল আমি কামতা গেছিলাম। সেখানকার ব্রিজটা এখনও করে নাই। ব্রিজটা একবার দক্ষিণ দিকে, একবার উত্তর দিকে বসায়। সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ ছিলো। সেটি হেলে পড়েছে, সামনে বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচল করতে পারবে না। মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। ব্রিজটির ঠিকাদার কাশেম কন্ট্রাক্টর। সেখানে তিন দিনের মধ্যে বাঁশের সাঁকো ও ২০ দিনের মধ্যে ব্রিজ নির্মান করতে হবে। যদি না করা হয়, আমি ঠিকাদারকে ব্ল্যাক লিস্টেটেড করে দেবো। তিনি রোডস এন্ড হাইওয়ের লোকজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না আমি কাউকে কেয়ার করি না। সে আমারই লোক হউক আর যেই হউক।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতায় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে উপজেলা সদরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী করে ডাকবাংলো চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারও নেতাকর্মী উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছেন। মনতলা মাদরাসায় গেলাম সন্ধ্যায়ও কাজ হচ্ছে। তার পাশে একলোক ব্রিক ফিল্ড দিয়ে অনেক জায়গা দখল করে রাখছে। তাকে বলেছি ইমিডিয়েটলি তোমার ইট তুলে নিয়ে যাও, না নিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাচনমেঘ প্রাইমারি স্কুল ও সেখানকার সবচাইতে অবহেলিত এলাকার একটি রোডেও দেখলাম রাতে কাজ চলছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে লিখা ব্যানার সামনে নিয়ে র‌্যালীর নেতৃত্বে দেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি। এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মাহফুজুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন রতন, জিএম হাছান তাবাছুম, শরিফ খান, আওয়ামীলীগের আমির আজম রেজা, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটির ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক খাজা আহমেদ মজুমদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাজা আহাম্মেদ ভুঁইয়া, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দীন আহমেদ, প্রমুখ।


জাতীয়