ফরিদগঞ্জে ডায়াবেটিস হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

  • প্রকাশিত: July 3, 2019
  • ক্যাটাগরি :

স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিস সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে, অভিযোগ নিকটাত্মীয়দের। প্রসূতির নাম সুমি আক্তার। উপজেলার চরভাগল গ্রামে তার বাড়ি। হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গতকাল বুধবার সকালে ।

সরেজমিন জানা গেছে, উপজেলার ৯নং (উত্তর) গোবিন্দপুর ইউপির চরভাগল গ্রামের মিজি বাড়ির জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫)। তিনি দুই শিশু সন্তানের জননী। ২রা জুন মঙ্গলবার রাত ১২টার সময় প্রসূতির প্রসব বেদনা উঠে। রাত আনুমানিক দুইটায় ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিস সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এসময় সুমি আক্তার ২২ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন। হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও রাতে ডাক্তার আসেননি। সকাল ১১টার দিকে ডাক্তার এসে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পর হুইল চেয়ারে বেডে নেওয়ার সময় সুমী আক্তার মারা যান।

সুমি আক্তারের স্বামী জসিম মিজি (৩২) দেবর মনির হোসেন ও সৈয়দ আহাম্মদ জানান ভর্তির পর রাতে ৩/৪ বার ফোনে কল দিলেও ডাক্তার পাওয়া যায়নি। পরদিন বুধবার সকালে ৪/৫ বার ফোন করলে ১১টার দিকে ডাক্তার এসে আল্ট্রা করানোর পর ঢাকায় রেফার করেন। নিকটাত্মীয়দের অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারের অবহেলায় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের ফলে সুমির মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, প্রসূতি মায়ের আত্মীয়দের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি দাবী করেছেন, এই হাসপাতালে কোন ডিউটি ডাক্তার নেই। শুরু থেকেই ডিউটি ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করেন একজন ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান। এ কথাটি কেউ জানে না। আমরা এতোদিন মনে করতাম তিনি এমএমবিবিএস ডাক্তার। আজকে আমাদের সূমী মারা যাবার পর এখানকার দুইজন লোকের কাছে এ কথা শুনলাম। তিনি বলেন, এটা দুর্ঘটনা না, হত্যাকান্ড।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সত্ত্বাধীকারী ও ডাক্তার মো. সাদেকুর রহমান দাবী করেন, চিকিৎকের অবহেলায় নহে, রোগীর অসচেতনতাই মৃত্যুর জন্য। দীর্ঘসময় আপনারা ডাক্তার না দেখিয়ে কালক্ষেপণ করার কারণ কি মৃত্যুর জন্য দায়ি নয়। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতে সবসয়মই আমাদের ল্যাব বন্ধ থাকে। এ জন্য সকাল ৯টায় আমার স্ত্রী গাইনী ডাক্তার ফারহানা ইসলাম নিপা আল্ট্র সোনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে ঢাকায় নিতে পরামর্শ দেন। সুমি ২২ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শিপন জানান, জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধাণ পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রকিব জানান, ঘটনার বিষয জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার একেএম মাহাবুবুর রহমান জানান, আমরা এ ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।


জাতীয়