ফরিদগঞ্জে গ্রাইন্ডার মেশিনে গলা কেটে শ্রমিকের মৃত্যু

  • প্রকাশিত: June 24, 2019
  • ক্যাটাগরি :

গাজী মমিন: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গ্রাইন্ডার মেশিনে গলা কেটে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে রড শ্রমিকের। তার নাম এমরান হেসেন। বাবার নাম এন্তাজ খান। উপজেলার ১৬নং ইউপির কাউনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে সোমবার বেলা আনুমানিক এক টায়। এ ঘটনায় এমরান হোসেনের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গ্রামের মিন্নাত আলী বেপারী বাড়ীর প্রবাসী আলমগীর হোসেন আলম এর বাড়ির সামনে গত তিনদিন যাবত রড কাটার কাজ করছিলেন একই গ্রামের হাজী বাড়ীর শ্রমিক এমরান হোসেন (২৪)। বাড়িতে বেড়াতে আসা আলমগীর হোসেনের বোন নাছিমা আক্তার বকুল (৪৫) বেলা একটা নাগাদ সেখানে যান। তিনি দেখেন এমরান হোসেন মাটিতে কাত হয়ে পড়ে আছেন। তার গলার মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রাইন্ডার মেশিনের কাটিং হুইল ঢুকে আছে। সেখান থেকে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। তিনি চিৎকার দিয়ে বাড়ির ভিতর দ্রুত ছুটে যান। কাউকে না পেয়ে ফিরে আসেন। দেখেন, অপরিচিত একজন রিক্সা শ্রমিক তাকে রিক্সায় তোলার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখেন এমরানের দেহ নিস্তেজ হয়ে গেছে। লোক জনের ধারণা প্রচুর রক্ত ক্ষরণে এমরান হোসেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।

এদিকে, ঘটনাস্থলের পাশেই এমরানের বাড়ি। খবর পেয়ে তার আত্মীয় স্বজন ছুটে যান। তার মা-বাবা, ভাই বোনদের গগন বিদারি কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠে। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে এমরান হোসেন তৃতীয়। তার বাবা এন্তাজ হোসেন দীর্ঘদিন রোগ শোকে ভূগছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, কাজ করার সময় গ্রাইন্ডার মেশিন ছুটে এসে এমরান হোসেনের গলায় আঘাত করে। আশেপাশে কেউ না থাকায় প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মুত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের ইনস্পেক্টর (তদন্ত) অহিদুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার মমিনুল হক, এসআই আব্দুল আউয়াল, এসআই নুরুল ইসলামসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেন ও মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট লিখেন। এ ব্যপারে এসআই মমিনুল হক বলেছেন, মৃতের আত্মীয় স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও দাবীর প্রেক্ষিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগযোগ করে বিকাল ছয়টায় মৃত এমরান হোসেনের মরদেহ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


মৃত্যু