দিন পার করতে পারল না বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত: March 11, 2019
  • ক্যাটাগরি :
টেস্ট ম্যাচটা এখন তিন দিনের। এক দিন শেষ। বৃষ্টি থেকে মুক্তি মিলতেই ওয়েলিংটনে শুরু হয়েছে বোলিং সংগীত। বৃষ্টিতে প্রথম দুদিন ভেসে গেছে। কিন্তু পরিচ্ছন্ন তৃতীয় সকালে খেলা শুরু হয়ে আবার বৃষ্টিতে শেষ টানার আগে একটা কথা ঠিকই বুঝিয়ে দিয়ে গেল। বেসিন রিজার্ভে বৃষ্টি না থাকলে বাকি দুদিনেও অ্যাকশনের কমতি থাকবে না।

আকাশের লাগাতার কান্না কখন শেষ হয় সেই বিরক্তিকর অপেক্ষায় পাঁচ দিনের টেস্টের দুদিন জলের গ্রাসে। রবিবার ৭২.৪ ওভার খেলা হলো। প্রায় ৫টার দিকে আবার আকাশ ভেঙে পড়ে খেলা থামায়। আর এই সময়ে গ্রিনটপ উইকেট ১২টি উইকেটের পতন ঘটিয়ে দিয়েছে। অমূল্য টসটা জিতে কিউইরা বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল। সবুজ উইকেটে কিউই অল পেস অ্যাটাক তুলল ঝড়। একমাত্র তামিম ইকবাল ছাড়া বড় জবাব ছিল না আর। বাংলাদেশ ২১১ রানে অল আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের শেষটাও ভালো হয়েছে বলা যাচ্ছে না। ২ উইকেটে ৩৮ রান তাদের। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে ১৭৩ রানে।

এখনো খেলার ১৯৬ ওভার বাকি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বাকি দুদিন ঠিকঠাক থাকবে। আর এদিনেই উইকেটের ঘোষণা, এখানে এখনো সব সম্ভব। ১৭ বছর আগে হ্যামিল্টনের প্রথম দুদিন বৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিল। তারপরও ইনিংস ও ৫২ রানের ব্যবধানে জিতেছিল ব্ল্যাকস ক্যাপস দল। ঘটনাক্রমে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি হ্যামিল্টনে একই ব্যবধানে জিতে এসেছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বের দুই নম্বর দলটি হ্যামিল্টনে ২০০১ সালে ঘটানো ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইছে এখানে। ২-০-এর লিড নিয়েই ক্রাইস্টচার্চের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে নামতে চায়।

ঘরোয়া মৌসুমে ২০৩.৬৭ গড় নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন টম ল্যাথাম। প্রথম টেস্টে করেছিলেন ১৬১। সেই ল্যাথামকে শুরুতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন পেসার আবু জায়েদ রাহী। এই রাহী কিছুক্ষণের মধ্যে অন্য ওপেনার জিত রাভালকে (৩) শিকার করেছেন। ৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (১০*) আর অভিজ্ঞ রস টেইলর (১৯*) প্রাথমিক ধস সামলেছেন। আর বিপদ ঘটতে দেননি। খালেদ আহমেদের বদলে এই ম্যাচে একাদশে এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। গতিময় কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ইবাদত হোসেন আছেন। উইকেট কিন্তু এই বোলারদের প্রতিপক্ষের মু-ুপাতের নিমন্ত্রণ দিয়ে রেখেছে।

অথচ তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলাম দিনটা যেভাবে শুরু করেছিলেন তখন সবকিছু অন্যরকম লাগছিল। ট্রেন্ট বোল্ট নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলেন না লেন্থে। টিম সাউদিও পার্টনার বোল্টের মতো যতটা প্রত্যাশিত ছিল ততটা সুইং করাতে পারছিলেন না। সিম মুভমেন্ট ছিল কম। টানা তিনটি পঞ্চাশোর্ধ ওপেনিং জুটি গড়লেন তামিম-সাদমান। ১৯ বছর পর নিউজিল্যান্ডে কোনো টেস্ট দলের ওপেনিং জুটি এমনটা করতে পারল। আর তামিম টানা তিনটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেললেন। কিন্তু হায় নিয়তি, এক তামিম ছাড়া আর কেউ যে দাঁড়াতেই পারলেন না। বিশেষ করে পরে নিল ওয়াগনারের শর্ট বলের তোপের মুখে।

তামিম-সাদমানের জুটিটা ৭৫ রানের। ২০.৪ ওভারে। উইলিয়ামসন এরপর কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে আনলেন। নাগালের বেশ বাইরের একটি বল খেলে ফেললেন সাদমান। গ্র্যান্ডহোম এনে দিলেন ব্রেক থ্রু। ২৭ রান সাদমানের।

৩৫ ওভারের প্রথম সেশনে আরও দুটি উইকেট পড়ল। তামিম-মুমিনুল হক বোঝাপড়া করে নিয়েছিলেন। ম্যাট হেনরি বাঁহাতির বিপক্ষে সংগ্রাম করছিলেন। কিন্তু লাইন-লেন্থ ছিল দারুণ। বাংলাদেশের আসল পতন শুরু ১১৯ রানের সময়। এরপর ১৬৮ রানে ৬ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে ২৬ ওভারে নেই ৭ উইকেট।

৩১তম ওভারে ওয়াগনারকে বল দিলেন অধিনায়ক। চিত্র আমূল পাল্টাতে থাকে তারপর। ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় কিংবা ব্যাটসম্যান বুঝে শর্ট বলের যে তোপ দাগা শুরু ওয়াগনারের সেটাই প্রতিপক্ষের জন্য কাল হয়। অন্য বোলারও তাতে অনুপ্রাণিত।

ওয়াগনারের প্রথম দুই উইকেট আসে কঠিন এক পরিস্থিতিতে। মুমিনুল ও মোহাম্মদ মিঠুন শর্ট বল খেলে আউট। কিন্তু রিভিউ নিয়ে দুজনই বাঁচেন। পরক্ষণে আউট। লেগ সাইডের বল ছাড়তে ছাড়তে খেলে ফেলে মুমিনুল পেছনে ক্যাচ দেন। ১৫ তার। মিঠুনের ব্যাটের কানায় চুমু খেয়ে বল সেই উইকেটকিপারেরই হাতে। তার অবদান ৩। হ্যামিল্টনের দ্বিতীয় ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান সৌম্য সরকার (২০) ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ (১৩) এখানে অস্বস্তিতে। লিটন দাসও। যদিও ৩৩ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরের মালিক তিনি।

লাঞ্চের ঠিক আগে মিঠুন আউট। বিরতির পরও কামান দাগতে থাকেন অনবরত ওয়াগনার। হেনরি ও ওয়াগনারের বোলিং জুটি টানা ৭২ মিনিট বল করেছে। হ্যামিল্টনের তিন সেঞ্চুরিয়ান তাদেরই শিকার।

১২৬ ও ৭৪-এর পর আবার ৭৪ তামিমের। ৭২ নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিলেন। তামিম ও মাহমুদউল্লাহ দুজনই ওয়াগনারের কোমর সমান তোলা বলে পুল করে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন। হেনরির বলে একই কাজ করেছেন সৌম্য। লিটন লড়লেন। কিন্তু শেষে বোঝা গেল বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারই সবচেয়ে বাজে এখন। ৬ উইকেটে ২০৬ থেকে ২১১ অল আউট! ওয়াগনারের ৪ উইকেট, বোল্টের ৩।

সবুজ উইকেটে রাহীর বোলিং দিনের শেষে তবু আশা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশকে। সোমবারের সকালটা তাই বড় বেশি গুরুত্বপূর্ণ সফরকারীদের জন্য।


খেলা