ছোট চাকরির বড় ফাঁদ

  • প্রকাশিত: February 12, 2019
  • ক্যাটাগরি :

মির্জা মেহেদী তমালঃ ইউনাইটেড ন্যাশন্স ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন ইমারজেন্সি ফান্ডে (ইউনিসেফ) চাকরি দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছে একটি চক্র। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও ভুয়া নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চক্রটি সারা দেশে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে চক্রটি শিক্ষিত বেকারদের কাছ থেকে দুই থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ পর্যন্ত টাকা নেয়। তাদের এক মাসের ট্রেনিং দেওয়া হয়। ট্রেনিং ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। ট্রেনিং শেষে নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। সম্প্রতি চক্রটির বিরুদ্ধে ২৬ জনের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ চক্রের সাতজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ছোট চাকরির আশা দেখিয়ে বড় ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে প্রতারকরা। পুলিশ জানায়, এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৪৭), আলমগীর (৪৬) ও মামুনুর রশিদ (৩৯)। এ চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন- শফিকুল ইসলাম (৪০), আবু নাসের ইমতিয়াজ (৫০), শাহাদাত হোসেন (৪২) ও ইউসুফ পাটোয়ারী (৪৩)। প্রতারকরা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড সোর্সিং লিমিটেডের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে লোক সংগ্রহ করে। সম্প্রতি ২৬ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। ইউনিসেফে সুপারভাইজার ও ম্যাসেঞ্জার পদে তাদের চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। সুপারভাইজার পদে ৩২ হাজার ৪০০ এবং ম্যাসেঞ্জার পদে ২৮ হাজার ২০০ টাকা বেতন দেখিয়ে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কাউকে আবার ইউনিসেফের লোগো সংবলিত পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারিংসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার পর ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকার গ্রিন লাইন ট্রেনিং সেন্টারে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছে। জামালপুরে প্রতিষ্ঠানটির ১০টি শাখা ছিল। ইতোপূর্বে সিলেটে শাখা খুলে ঋণ দেওয়ার নাম করে ২০০০ হাজার গ্রাহক তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে জামানতের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অফিস গুটিয়ে সটকে পড়ে চক্রটি। জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মালিক ছিলেন শফিকুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক হলেন রফিকুল ইসলাম ও মার্কেটিং ডিরেক্টর হলেন আলমগীর। উত্তর যাত্রাবাড়ী কলাপট্টির প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ও আলমগীরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। শফিকুল পলাতক। সূত্র জানায়, চাকরি দেওয়ার সময় আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাসের সিকিউরিটি অ্যান্ড সোর্সিং লিমিটেডের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়- উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাড়ি। কিন্তু পুলিশ সেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পায়নি। পুলিশ জানায়, ইউনিসেফে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে নিউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশকে তারা জানান, প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে জামানত হিসেবে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয় প্রতারকরা। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, তার বন্ধু জয়ন্ত মসিদের কাছ থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার এবং গোপাল মসিদের কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের আইডি কার্ড দেওয়াসহ ট্রেনিং করানো হয়। ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ জানান, সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়। একই দিনে তার বন্ধু রবিউল করিমকে ম্যাসেঞ্জার পদে চাকরি দেওয়ার নামে দুই লাখ টাকা এবং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার নামে মারুফ হাসানের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। তাদের ২৬ জনকে একসঙ্গে ট্রেনিং দেওয়া হয়। জামানত ছাড়াও প্রত্যেকের কাছ থেকে ট্রেনিং ফি নেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে তারা চাকরি দেয়নি।


চাকরি