গাজীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে বিষাক্ত বর্জ ফেলানোর কারনে পরিবেশ বিপন্ন

মহিউদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর জেলার তিন উপজেলার বুক চিড়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীটি এখন বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শ্রীপুরের বরমী বাজার ও কাপাসিয়া সদর এলাকায় নদীটিতে ফেলানো হচ্ছে এলাকার সকল প্রকার দূষিত বর্জ্য। এতে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে নদীটির পরিবেশও বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনসাধারণ ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নদীর মধ্যে বর্জ্য নিষ্কাশন করলেও প্রশাসনের কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ এখনও দেখা যায়নি।

স্থানীয় লোকজনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা শ্রীপুরের বরমী বাজার ও কাপাসিয়া উপজেলা সদর। জেলার মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম স্থান হিসেবে এখনও বরমী বাজার ও কাপাসিয়া বাজারের একটি অবস্থান রয়েছে। ছোট বড় সহস্রাধিক দোকানপাট রয়েছে এসব বাজারে, এছাড়াও বাজার ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন আবাসিক বাসায় বসবাস করে আরো কয়েক হাজার লোক। দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুরের বরমী ও কাপাসিয়া বাজার কাঁচাবাজার সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে শীতলক্ষ্যায় বর্জ্য অপসারণ করে আসছে স্থানীয়রা।

এমনকি বরমী এলাকার ইনসাফ ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল ও কাপাসিয়ার সাফা মারওয়া হাসপাতাল সহ কয়েকটি হাসপাতালের বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে সরাসরি ফেলা হচ্ছে।শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল জানান, বরমীর মত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে ময়লা আবর্জনা রাখার স্থান নির্ধারণ করা যায়নি। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই শীতলক্ষ্যার মধ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে। তবে আমি নিজে এই বিষয়ে তদারকি করে থাকি, নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পলিথিনগুলো পুড়িয়ে দেই। তবে সরকারীভাবে একটা জায়গা নির্ধারন করে দিলে আর নদীতে আমরা তা ফেলবো না।বরমীর খেয়াঘাটের মাঝি পরেশ চন্দ্র জানান, খেয়াঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বর্জ্য ফেলানোর ফলে যাত্রীসহ চলাচলকারী লোকজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রকট দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। নদীর পরিবেশ দূষনসহ জনদুর্ভোগের বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কাপাসিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন শিকদার জানান, স্বচ্ছজলের শীতলক্ষ্যা এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। দখলে নদীটির আগেই অস্তিত্ব সংকটে পড়লেও এখন দূষণে যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। কাপাসিয়া সদরসহ, তারাগঞ্জ, রানিগঞ্জ ও তরগাঁও বাজার এলাকায় সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নদীর যে জীবন আছে আমরা সবাই এ বিষয়টি ভুলে যাচ্ছি। নদীর দূষণ বন্ধে ইতিমধ্যেই আমরা মানবন্ধনসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করলেও নদীর দূষণ বন্ধ হয়নি। নদীটির কাপাসিয়া বাজারের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় কাপাসিয়া বাজার ও সদরের সকল ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণের একমাত্র মাধ্যম এখন শীতলক্ষ্যা নদী।দূষনে বিষাক্ত হয়ে উঠছে নদী ও তার আশপাশের পরিবেশ।কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন জানান, নদীতে ময়লা আবর্জনা অপসারণের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। তবে যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই অপসারণ বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে।কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরা নদী দূষণের বিষয়ে তিনি সরেজমিন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন।গাজীপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম জানান, নদীতে বর্জ্য ফেলানোর কোন সুযোগ নেই। এই বিষয়ে শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার স্থানগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারন বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


দেশজুড়ে