অসুস্থ শরীরে চলছে রোগীর সেবা

  • প্রকাশিত: May 8, 2019
  • ক্যাটাগরি :

অসুস্থ থাকলে ডাক্তারের কাছে যাই চিকিৎসা নিতে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ডাক্তার যদি অসুস্থ থাকেন তখন কি হবে? নিশ্চই তিনিও চিকিৎসা নিয়ে ছুটিতে থাকবেন। কিন্তু এর ব্যতিক্রম দেখা গেলো পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

উপজেলা হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী আব্দুল্লাহ মারুফ। অসুস্থ শরীরে এক হাতে স্যালাইন লাগিয়ে রোগী দেখছেন এবং অন্য হাত দিয়ে লিখে দিচ্ছেন চিকিৎসার ব্যবস্থা পত্র। এমন একটি ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। অনেকেই তার এসব ছবি শেয়ার করে প্রশংসা করেছেন।

‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল সংবাদ’ নামক একটি ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে এমন ছবি পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টের নিচে কমেন্টে মূল পোস্টের লিংকও দেয়া হয়। শেখ মাহাবুব সেতু নামেক একজন এই পোস্টটি এবং ফেসবুক প্রফাইল মতে তিনিও একজন চিকিৎসক। সেই পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

এ ধরণের ছবি হয়তো শুধুমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। স্যালাইন ঝুলছে, ডাক্তার আর রোগী বসে আছে। ইনফিউশন সেটটি রোগীর হাতে নয় শেষ হয়েছে ডাক্তারের হাতে। বাহিরের হোটেলের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং এর শিকার স্বয়ং ডাক্তার। ছবিটা ৩৬ বিসিএসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ কাজী আব্দুল্লাহ মারুফের বৈকালিক দায়িত্ব পালনের সময়কার। স্থান উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়। অনেকে এই ডাক্তার সাহেবকে বাহবা দিলেও এটা আমাদের হেলথ সেক্টরের দৈন্যতার একটা চিত্র। এমন অসুস্থ অবস্থায় তাকে রিপ্লেস করার মতো অন্য কেউ এভেইলেবল নেই। অগত্যা এক হাতে স্যালাইন আর অন্য হাতে কলম।

ইউএইচএফপিও ছাড়া ১১ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। আছেন ৩ জন। একজন ফ্রাকচার হয়ে ছুটিতে, একজন আর এম ও এর দায়িত্বপালন করছেন। আরেকজন আমাদের এই বন্ধুটি। সকালের ডিউটি বাদেও সপ্তাহে কমপক্ষে চারদিন ইমার্জেন্সি দায়িত্ব পালন করতে হয়৷ ইএমও এর কোন পোস্ট অর্গানোগ্রামেই নেই। শিশু কন্সাল্টেন্ট একজন আছেন উনি আউটডোর পেশেন্ট দেখেন। সুইপারে সংখ্যা অপ্রতুল। রোগীর সিরিয়াল মেইনটেইনের মতো পর্যাপ্ত এমএলএসএস পর্যন্ত নেই। নিজেই টিকেট জমা নিয়ে নাম ডেকে ডেকে রোগী দেখতে হয়!

যখন উপজেলায় পোস্টেড ছিলাম তখন বাহিরে হোটেলে খেতে হতো। রোগীরস্বজনদের সাথে দেখা হলে বলতো স্যার আপনারাও এখানে খান! আপনাদের বাবুর্চি নাই? হেসে বলতাম, থাকার জায়গারই ভাল বন্দোবস্ত নেই, বাবুর্চি তো বিলাসিতা। ইউএইচএফপিওদের গাড়ি দেওয়া হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে সেবার মান বাড়বে! কিন্তু যারা সরাসরি সেবা পৌঁছুবেন সেই মেডিকেল অফিসারদের খাবার ব্যবস্থাও নেই। রাস্তার পাশে “হোটেল আল ছালা দিয়া ঢাকা” তে তিনবেলা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়! ২৪ ঘন্টা যারা সার্ভিস দেয় তাদের খাবার ব্যবস্থা হসপিটাল কর্তৃপক্ষ কেন করবেনা? তাদের কেন অলিগলির হোটেলে খেয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় অসুস্থ হতে হবে!

২ জন ডাক্তার যে ১১ জনের দায়িত্ব পালন করছেন এটার মূল্যায়ন কীভাবে হবে? কোনো ভাবেই তো এর কম্পেন্সেশন দেয়া সম্ভবপর বলে মনে করি না। বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত দায়িত্বভাতা হিসেবে দিলেও না।

ডাক্তাররা এতো আশা নিয়ে সরকারি চাকরিতে এসেও কেনো তথাকথিত গ্রামগুলোতে থাকতে চান না এ প্রশ্নের উত্তর দেবার কি আর দরকার আছে?


জাতীয়